আশুলিয়া বিএনপি’র ত্যাগী নেতা আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।
বৃহত্তর ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সাভার -আশুলিয়ায় বিএনপি’র যে কয়জন কর্মী দলের প্রতি সদা অনুগত থেকে তৃনমুল পর্যায়ে দলের আদর্শ ও আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন, আব্দুস সোবহান তার মধ্যে শীর্ষস্থানীয়। দ্বীর্ঘ ৩ দশকে সাভার -আশুলিয়ার তথা ঢাকা জেলার বিভিন্ন ইউনিটে যুবদল ও বিএনপির নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। দলের প্রতি কমিটমেন্ট, নেতৃত্বের প্রতি অনুগত ও কর্মীদের প্রতি সুসম্পর্ক থাকায় এ দ্বীর্ঘ সময় দলকে তৃণমূলে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হয়েছেন।
এর বাইরে পারিবারিক ঐতিহ্য ও নিজের কর্মী তথা স্থানীয় জনমানুষের সাথে যুক্ত থাকায় পর পর ৩ মেয়াদে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে জনগনের সেবা করার সুযোগ হয়েছে তার।
ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন পাথালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে গত ১৭ বছরে আন্দোলন -সংগ্রামে অগ্রভাগে ছিলেন আব্দুস সোবহান। তৃনমুল বিএনপিকে সংগঠিত করে সাভার -আশুলিয়া থেকে ঢাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রোগ্রামে সরব উপস্থিতি ছিল আব্দুস সোবহানের। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে দল ঘোষিত প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা থাকায় দল তাকে আন্দোলনকালীন সময় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক থেকে সভাপতির দায়িত্ব দেয়। এই আন্দোলন -সংগ্রাম করতে গিয়ে এক বিশাল ত্যাগ ও নির্যাতন ভোগ করতে হয় আব্দুস সোবহানকে।
মূলতঃ ১/১১ সরকারের আমল থেকেই আব্দুস সোবহানেরেউপর শুরু হয় নির্মম নির্যাতন। এসময় দলীয় সিনিয়র নেতৃত্বের প্রতি অনুগত ও আস্থাশীল থাকায় তার উপর রাষ্ট্রযন্ত্রের নির্মম নির্যাতন শুরু হয়। দলীয় নেতৃত্বের প্রতি মিথ্যা স্বাক্ষ্য না দেয়ায় শারীরিক নির্যাতন ও আর্থিক ভাবে সর্বশান্ত করা হয় আব্দুস সোবহানকে। ১/১১ সরকারের রোষানলে পড়ে কয়েকদিন গুম হয়ে থাকতে হয়, তারপর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গুম অবস্থা থেকে পালিয়ে এসে প্রথমে আত্মগোপনে চলে যেতে হয়। এ অবস্থায় পারিবারিক ব্যাবসা-বানিজ্য দখল করে নি:স্ব করে দেয়া হয় তাকে। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থেকে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা ও অংশগ্রহণ করতে হয় আব্দুস সোবহানকে। গুম অবস্থা থেকে পালিয়ে পরিবারসহ সেই যে এলাকা ছাড়া হতে হয় তারপর থেকে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের আগ পর্যন্ত এ দ্বীর্ঘ সময় আর নিজ বাড়িতে অবস্থান করতে পারেনি তিনি। এমনকি নিজের বাবার জানাজায় অংশ নেয়াও সম্ভব হয়নি গ্রেফতার ও ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ কর্মীদের দ্বারা হামলা মামলার কারণে। নিজের ব্যবসা-বানিজ্য তথা আয় রোজগারের সব ব্যবস্থা হারিয়েও কখনো দমানো যায়নি কর্মী বান্ধব তৃনমুলের এ নেতাকে। ঢাকার অতি নিকটে নিজের বাড়ি ঘর ফেলে উত্তরায় বছরের পর বছর ভাড়া বাড়িতে অতি নিদারুণ আর্থিক কষ্টে কাটাতে হয়েছে তাকে পরিবার ও দলীয় কর্মীদের নিয়ে। এ অবস্থায় দল ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে অনেক মামলার আসামি হয়ে ফেরারী জীবন যাপন করতে হয়েছে। এ কারণে এক বাসায় দ্বীর্ঘ সময় থাকা সম্ভব হয়নি। পুলিশ ও আওয়ামীলীগের রোষানল থেকে বাঁচতে অনেকগুলো বাসা পাল্টিয়ে কৌশল অবলম্বন করে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে হয়েছে তাকে।
৫ আগষ্ট ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর নিজ বাড়িতে থাকার সুযোগ হয়েছে তার। এরপর থেকেই দলীয় নেতৃত্বের পরামর্শ অনুযায়ী স্থানীয় নেতা-কর্মী ও জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করে দেশের সংকটকালীন সময়ে জানমালের হেফাজত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছে আব্দুস সোবহান মেম্বার যা অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক প্রশংসিত হয়েছে। নিজ এলাকা পাথালিয়ায় সার্বক্ষণিক অবস্থান করে শিল্প সমৃদ্ধ সাভার -আশুলিয়ার কল কারখানা, ব্যবসা -বানিজ্য সচল করা, আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঠেকানো এবং দুস্কৃতিকারীদের শায়েস্তা করতে প্রশাসন ও স্থানীয় জনসাধারণকে নিয়ে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। দলীয় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও যে কোন অরাজকতার বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর হয়ে ভূমিকা রাখছে আব্দুস সোবহান। এ অবস্থায় স্বার্থান্বেষী মহল তৃনমুলে জনপ্রিয় এ বিএনপি নেতাকে নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী ও স্থানীয় দুস্কৃতিকারীদের শায়েস্তা করায় কতিপয় অসাধু রাজনৈতিক কর্মীদের যোগসাজশে আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।
বিএনপির জন্য নিবেদিত প্রাণ তৃনমুলের জনপ্রিয় এ নেতার রাজনৈতিক অবস্থানকে কালিমালিপ্ত করতে কতিপয় কালো টাকার মালিক ও ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক দলের মদদ পুষ্ট দূর্বৃত্বরা আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে।